1. admin@apurbanews24.com : admin :
  2. Muhammadsaifu2018@gmail.com : Saiful Islam : Saiful Islam
দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলিতে নিহত ১ আহত ২ - অপূর্ব নিউজ ২৪ -ApurbaNews24
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন

দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলিতে নিহত ১ আহত ২

অপূর্ব নিউজ ডেস্ক
  • Update Time : বুধবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২১
  • ১১৯ Time View

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনে দুই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে গোলাগুলিতে একজন নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টায় নগরীর ডবলমুরিং থানার পাঠানটুলী মগপুকুরপাড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আজগর আলী বাবুল ওয়ার্ড যুবলীগ কর্মী। আহতরা হলেন- মো. মাহবুব ও অলি উদ্দিন। এরা তিনজনই গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

এদের মধ্যে নিহত আজগর আলী বাবুল ও মাহবুব ২৮নং পাঠানটুলী ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের সমর্থক বলে পুলিশ জানিয়েছে। অপরজন পথচারী। চসিক নির্বাচনকে ঘিরে বিভিন্ন প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-সংঘাতের ঘটনা বাড়ছে।

ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপ কুমার দাশ রাত ১০টায় যুগান্তরকে বলেন, মগপুকুর এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর ও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আবদুল কাদেরের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলি হয়।

এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে আজগর আলী বাবুল মারা যান। এছাড়া গুলিবিদ্ধ হন মাহবুব নামে আরেক ব্যক্তি। দু’জনই বাহাদুরের সমর্থক বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির নায়েক মো. আমির হোসন বলেন, গুলিবিদ্ধ তিনজনকে চমেক হাসপাতালে আনা হয়েছিল। এর মধ্যে আজগর ও মাহবুবকে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

অপর একজন হাসপাতালের ২৪ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

কাউন্সিলর প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুর বলেন, আমি মোগলটুলি এলাকায় গণসংযোগ করছিলাম। নজির ভাণ্ডার লেইনে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ করে বৃষ্টির মতো গুলি শুরু করে সন্ত্রাসীরা।

আবদুল কাদেরের উপস্থিতিতে সন্ত্রাসীরা আমার ও আমার সমর্থকদের ওপর হামলার পাশাপাশি গুলি করে। আমাকে বাঁচাতে গিয়ে আমার কর্মী বাবুল নিহত হয়েছেন। মাহবুব নামে আমার আরেক কর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন।

নিহত বাবুলের ছেলে সিজান মোহাম্মদ সেতু বলেন, আমার বাবা যুবলীগ করতেন। আমি ও আমার বাবা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম বাহাদুরের পক্ষে গণসংযোগ করছিলাম। হঠাৎ গোলাগুলির একপর্যায়ে আমার বাবা বুকে গুলিবিদ্ধ হন।

হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। কাউন্সিলর প্রার্থী আবদুল কাদের বলেন, এ ঘটনা পরিকল্পিত। সোমবার বাহাদুরের লোকজন কদমতলীতে আমার নির্বাচনী পোস্টার ছিঁড়েছে।

তাই আজ (মঙ্গলবার) আমি পুলিশকে অবহিত করেই মগপুকুরপাড়ে গণসংযোগে যাই। আমি একটি ভবনের দোতলায় ছিলাম। হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ শুনি। তখন আমার লোকজন সবাই দৌড়ে চলে যায়।

আমি প্রাণরক্ষায় একটি বাসায় আশ্রয় নিই। সেখান থেকে দেখি বাহাদুরের লোকজন গুলি ছুড়ছে। এদের মধ্যে কয়েকজন কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যও রয়েছে। যিনি মারা গেছেন তিনিও তাদের সঙ্গেই ছিলেন। এরপর তারা আমার বাসা ও গাড়ি ভাংচুর করেছে।

নজরুল ইসলাম বাহাদুর চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য এবং পাঠানটুলী ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। তিনি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী।

২০১০ সাল থেকে ২০১৪ পর্যন্ত কাউন্সিলর ছিলেন তিনি। ২০১৫ সালে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী আবদুল কাদেরের কাছে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন।

দ্বন্দ্ব-সংঘাত বাড়ছে : শুক্রবার প্রচার-প্রচারণা শুরুর পর নগরীর কয়েকটি ওয়ার্ডে প্রতিদ্বন্দ্বী মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

ইতোমধ্যে তিন দিনে প্রার্থীর সমর্থকদের মারধর, হুমকি-ধমকি প্রদান, পোস্টার ছেঁড়া, প্রচারণার গাড়ি ভাঙচুরসহ আচরণবিধি লঙ্ঘনের ৭টি অভিযোগ জমা পড়েছে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়েও।

শনিবার বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের প্রচারণায় হামলার অভিযোগ ওঠে। ডা. শাহাদাতের ব্যক্তিগত সহকারী মারুফুল হক যুগান্তরকে বলেন, ‘ওইদিন বেলা সাড়ে ১১টায় বাগমনিরাম পল্টন মোড়ে পোস্টার লাগানোর সময় বিএনপির এক কর্মীকে মারধর করা হয়। কেড়ে নেওয়া হয় পোস্টারসহ অন্যান্য সামগ্রী। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। একইদিন বিকাল ৪টায় ১৮ নম্বর পূর্ব বাকলিয়ার ওয়াজাইরপাড়ায় ডা. শাহাদাতের নির্বাচনী প্রচারণাকাজে ব্যবহৃত অটোরিকশা ও মাইক ভাঙচুর করা হয়। আহত হন ছাত্রদল কর্মী আহমেদ, যুবদল কর্মী মোহাম্মদ ফারুক ও অটোরিকশাচালক জাকের হোসেন।

সোমবার দুপুরে বহদ্দারহাট বারৈপাড়ায় ৬নং ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী হাসান লিটনের ওপর হামলা হয়। এতে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

একইদিন বিকাল পাঁচটায় বাকলিয়ার বাস্তুহারা এলাকায় ৩৫ নম্বর বক্সিরহাট ওয়ার্ড বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী অ্যাডভোকেট তারিক আহমেদ ও মহিলা কাউন্সিলর প্রার্থী মনোয়ারা বেগমের গণসংযোগে হামলা হয়। এসব হামলার ঘটনায় আওয়ামী লীগকে দায়ী করেছে বিএনপি।

শুক্রবার প্রচারণা শুরুর প্রথমদিনে ১ নং দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডে গণসংযোগ করেন রেজাউল করিম। মেয়র প্রার্থীকে শুভেচ্ছা জানানো নিয়ে ওই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী গাজী শফিউল আজিম ও বিদ্রোহী প্রাথী তৌফিক আহমেদ চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। কাউন্সিলর প্রার্থীদের পক্ষে স্লোগান-পাল্টা স্লোগানে ভীতিকর পরিস্থিতি রূপ নেয়। পরে সাবেক চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন দুই কাউন্সিলর প্রার্থীকে নিবৃত্ত করেন। শনিবার আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিমের নির্বাচনী কার্যালয়ে মহানগর জাতীয় শ্রমিক লীগের প্রতিনিধি সভায় শ্রমিক লীগের দু’গ্রুপে সংঘর্ষ ঘটে। উভয়পক্ষ একে-অপরের দিকে চেয়ার ছুড়ে মারে। এতে তিনজন আহত হয়েছেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করা নিয়ে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ-পাল্টা অভিযাগ : ১০ থেকে ১২ জানুয়ারি দুপুর ২টা পর্যন্ত রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা পড়েছে ৭টি অভিযোগ। এর মধ্যে ১০ জানুয়ারি রিটার্নিং অফিসারের কাছে আওয়ামী লীগ মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ দিয়েছে চট্টগ্রাম নাগরিক ঐক্য পরিষদ। ১১ জানুয়ারি বিএনপি মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন অভিযোগ করেন, ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে তার নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যবহৃত গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।

ওই এলাকায় ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে তার নির্বাচনী পোস্টার। একইদিন মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিমের পক্ষে মহানগর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক হাসান মাহমুদ শমসের অভিযোগ করেন, ‘কাজির দেউড়ি এলাকার বিএনপি কার্যালয় নাসিমন ভবনের পাশে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী রেজাউল করিমের নির্বাচনী প্রচারণার পোস্টার ছিঁড়েছে বিএনপি প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনের সমর্থকরা।

একইদিন ১১ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী মো. নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘প্রতিদ্বন্দ্বী কাউন্সিলর প্রার্থী মো. ইসমাইল কর্তৃক নির্বাচন থেকে সরে যেতে হুমকি-ধমকি দেওয়া হচ্ছে এবং নির্বাচনী প্রচার কার্যাক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নিতে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।’ চসিক নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান সাংবাদিকদের কে বলেন, ‘এ পর্যন্ত সাতটি অভিযোগ জমা পড়েছে। এসব অভিযোগ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 বিঃ দ্রঃঅপূর্ব নিউজ ২৪.কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।Apurbanews24
Theme Customized BY WooHostBD